মালদা

মুখে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়ার পর কয়েক বছর ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে প্রান হারাল ছাত্রী

দিনটি ছিল ২০১৪ সাল ফ্রেবুয়ারি মাসের ২০ তারিখ। রাতে নিজের পরিবারের সাথে বাড়িতে টেলিভিশন দেখছিলেন সাউথ মালদা কলেজের তৃতীয়বর্ষের ছাত্রী দীপাবলি রজক (২৪)। তার পরিবারে রয়েছে বাবা দিলিপ রজক, মা পারুল রজক ও ভাই অনিমেষ রজক। পরিবারের সঙ্গে বসে অবসর সময়ে টেলিভিশন দেখছিলেন সেদিন দীপাবলি রজক। এরপরেই ঘটে দুর্ঘটনাটি। যা তিলে তিলে শেষ করে দিল সেই মেয়ের জীবন। ঘটনাটি বৈষ্ণবনগর থানার সাট্টাঙ্গা পাড়া গ্রামের।  

        পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সেদিন টেলিভিশন দেখার সময় হঠাৎ তাদের বাড়িতে সেই গ্রামের বেশ কয়েকজন যুবক ঢুকে পরে। আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পরিবারের সকলকে ভয় দেখিয়ে দীপাবলি রজক এর মুখে অ্যাসিড ঢেলে দেয় ওই যুবকের দল। এরপর পরিবারের লোকজন দীপাবলি রজককে তড়িঘড়ি নিয়ে যান স্থানীয় বেদরাবাদ হাসপাতালে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকলে তাকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান থেকে তাকে কলকাতা মেডিক্যালে রেফার করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয় ২০১৭ সালের ২২ শে সেপ্টেম্বর। অ্যাসিড তার শরীরের ভেতরে ঢুকে পড়ায় তার খাদ্যনালী ও অনেক কিছু পরে ও পচে যায়। তাই অক্টোবর মাসের ১ তারিখে তার খাদ্যনালী অপারেসন করা হয়। কিন্তু শেষ রেহায় হয়নি তার মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে মারা যায় দীপাবলি রজক। বুধবার তার মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে আসা হয়। কান্নায় ভেঙে পরে তার পরিবার।   

        ঘটনায় অভিযুক্তদের নামে থানায় অভিযোগ দায়ার করা হলে। মুল অভিজুক্ত উজ্জ্বল মণ্ডল এর ১০ বছরের জেল হেফাজতের সাজা হয়। তার সাথে যুক্ত তার সঙ্গী  বিশ্বনাথ মণ্ডল, নির্মল মণ্ডল ও নিখিল মণ্ডল রেহায় পেয়ে যায়। দীপাবলি রজক এর পরিবারের দাবি তার মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি হক। তাই তারা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলে জানান মৃতার বাবা।